বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রামব্যাপি দৈনিক প্রিয় চন্দনাইশে নিয়োগ চলছে ।আজই আপনার সিভি আমাদের মেইল করুন । আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন ।

জান যাবে যাক, দ্বীন বেঁচে যাক- হুসাইনী হাক

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম রুবেল (বার্তা সম্পাদক)
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১
  • ৪০ জন পড়েছেন

জান যাবে যাক, দ্বীন বেঁচে যাক- হুসাইনী হাক

এম সাইফুল ইসলাম নেজামী আলকাদেরী

“কাতলে হুসাইন আসল মে মারগে ইয়াযীদ হ্যায়, ইসলাম যিন্দাহ হোতা হায় হার কারবালা কে বা’দ।” অর্থাৎ, ইমাম হুসাইনের নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে ইয়াযীদেরই মৃত্যু ঘটেছে; ইসলাম প্রতিটি কারবালার পর পুনরুজ্জীবিত হয়। মুখে মুখে সমাদৃত এ সত্য উক্তি কারবালার দর্শনকে শানিত করে। মহাকবি আল্লামা ইকবালের এ পংক্তিটি কারবালায় বিজয়ী ও পরাজিত শক্তিকে এড্রেস করে। পরিস্কার জানিয়ে দেয় ইমাম হুসাইনই (রা.) বিজয়ী। বিজয়ী হুসাইনের অগ্রজ ইমাম হাসান (রা.)। বিজয় হুসাইনের গর্বিত পিতা বেলায়তের সূর্য মাওলা আলী (রা.)’র। সফলতার সৃষ্টি হুসাইনের রত্নগর্ভা জননী খাতুনে জান্নাত মা-ফাতেমা (রা.)’র জন্য। বিজয় হুসাইনের নানিজান আল্লাহর সালাম পাওয়া সৌভাগ্যবতী খাদিজাতুল কুবরা (রা.)’র। বিজয় ধ্বনি হুসাইনের নানাজান ইমামুল আম্বিয়া নূর নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.)’র দান। বিজয় হুসাইন খান্দানের। বিজয়ের সৃষ্টিই হুসাইনের সাওয়ারি মদিনার মুনিবের কদমে পাক থেকে। বিজয় শুধু ৬১ হিজরী সনে নয়। এ বিজয়ের সূচনা নীলগগন সৃষ্টির আগে। মালিকে হাক্বীকি মহান আল্লাহ জীব সৃষ্টির বহুকাল আগে সযত্নে নূরে মুহাম্মদি (দ.)-কে সৃষ্টি করে বিজয়ের বার্তা দিয়েছেন; অসত্য যত প্রখর হবে সত্যের সূর্যোদয় তত করিব হবে। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে তিমিরাচ্ছন্ন মক্কা নগরী মুনাওয়ার করে এ বিজনে সৃষ্টিমূল নূরে মোস্তাফা (দ.)’র আগমন মূলত মিথ্যার তিমির বিনাশী সত্যের নূর বিচ্ছুরণ। সমস্তপ্রকার সৃষ্টির মূলভিত্তি রহমতে কামেলার শুভাগমন। তাই তো মুমিন আত্মা গেয়ে উঠে ‘মোস্তফা জানে রহমাত পে লাখো সালাম’। মুমিন প্রাণে একচ্ছত্র আধিপত্য আল্লাহ-রাসূলের। মরুর দুলালের মহানুভবতার কাছে গোটা পৃথিবী নতজানু। ত্রিভুবন বিজয়ী প্রিয় মুহাম্মদ (দ.)’র শাহজাদার নাম ইমাম হুসাইন। বিজয়ী নানার জয়ী দৌহিত্র ইমাম হুসাইন। ‘হুসাইন’ নিছক কোন নাম নয়; বরং নাম ‘হুসাইন’ রহমতের মালিকের দেওয়া জান্নাতি সুঘ্রাণ। হুসাইন সাধারণ কোন আরোহী নন; বরং হাবিবুল্লাহ (দ.)’র নূরানী কাঁধে আরোহীর নাম। মোস্তফা (দ.)’র নূরানী ঠোঁটের চিহ্ন অঙ্কিত শরীরের নাম ইমামে আলী মকাম। সৃষ্টির প্রাণ মোস্তফা (দ.)’র প্রশান্তি ইমাম হুসাইন। জান্নাতি লাল পোশাকাবৃত পবিত্র জিসিমের নাম হুসাইন ইবনে আলী। জান্নাতি ফুলের দুনিয়াবি নাম ইমাম হুসাইন। হুসাইন স্রেফ একটি ব্যক্তি নন; বরং হুসাইন একটি পৃথিবী। যে পৃথিবীতে মিথ্যার লেশমাত্র নেই। নেই অন্যায় ও অধর্মের স্থান। যে পৃথিবীতে আছে শান্তি আর মুক্তি। যে পৃথিবী হানাহানি মুক্ত, হিংসা বিদ্বেষের অস্তিত্বহীন। যে পৃথিবী প্রভুভক্তির ইমারতে গড়া। নবীপ্রেমের মজবুতিতে মুড়া। ইমাম হুসাইন একটি বিপ্লবের নাম। একটি সফল আন্দোলনের নাম। যে আন্দোলন একষট্টি হিজরির ১০ই মুহররম কারবালার প্রান্তর (ইরাকের ফোরাত প্রান্তর) থেকে চূড়ান্তভাবে শুরু হয়ে চলমান আছে আজ অবধি। চলবে কিয়ামততক। দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ, মাদক, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ইমাম হুসাইন নিঃসন্দেহে তেজোদ্দীপ্ত প্রেরণা। অভিশপ্ত ইয়াযীদের হাতে বায়াতের (আনুগত্য) অফার অগ্রাহ্য করে তার দুঃশাসন, স্বৈরাচারনীতি, অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড, ব্যভিচার, ঘৃণিত পদক্ষেপ ও গর্হিত অপরাধের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের নাম ইমাম হুসাইন। ইমাম হুসাইন একটি সাহসিকতার নাম। যে সাহসের কাছে ২২ হাজার সশস্ত্র জাহান্নামি ইয়াযীদী সৈন্য ভয়ে তরতর। ইমামে হুসাইন ধৈর্যের ইস্পাত-দৃঢ় সুউচ্চ মিনারের নাম। ইমাম হুসাইন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান পাঠ ধৈর্যের অনুশীলন। যেমন ধৈর্যের গুরুত্বারোপ করে সুরা বাকারার ১৫৩ নং আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা- ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুছতা’ঈনূ বিসসাবরি ওয়াসসালা-তি; ইন্নাল্লা-হা মা’আসসাবিরীন। ধৈর্যই ইমাম হুসাইনের প্রধান ভূষণ। সে ধৈর্যের পাহাড়ের সামনে খোদার দ্বীন বাঁচাতে নিজের শক্তি আব্বাস আলমদারের দুই হাত কর্তিত নিথর দেহ; নিজের বুকের ধন আলী আকবরের রক্তাক্ত নিশ্চুপ শরীর; আদরের ভাই, স্নেহের ভাতিজা ও ভাগিনাদের রক্তস্নাত নিস্তব্ধ জিসিম; নবীবাগের নিষ্পাপ গোলাপ ছয়মাসের শিশু আলী আজগরের বিষাক্ত তীর বিদ্ধ নিষ্প্রাণ নূরানী শরীর; কন্যা সৈয়দা সকিনার তৃষ্ণার্ত শুকনো মুখ; স্ত্রী শাহরবানুর সন্তান হারানো বোবাকান্না; বোন জয়নাবের শোকাভিভূত চেহেরা; হুসাইন শিবিরে স্বজনহারানো গগনবিদারী আর্তনাদ ইমাম হুসাইনের সবরের পর্দায় একটুও আঘাত হানতে পারেনি। ফোরাতের পানি বন্ধ, পানির জন্য হাহাকার হৃদয়ে প্রশান্তির ফোয়ারা ইমাম হুসাইন। তৃষ্ণার্ত প্রাণে একটাই ভরসা নানাজান রহমাতুল্লিল আলামীন অমিয়সুধা হাউজে কাউসার নিয়ে অপেক্ষায় আছেন! একে একে ৭১টি তাজাপ্রাণের নিরুত্তাপ দেহ ইমামের কাঁদে উঠেছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ করুন দৃশ্য অন্তরকে ভেঙে চুরমার করে দিলেও ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান ইমামে হুসাইন একটুও সাহস হারাননি। রক্তস্নাত ফোরাততীর সেদিন হু হু করে কেঁদেছিল নবী বংশের পবিত্র রক্ত বুকে মেখে। আকাশ বাতাস বৃক্ষলতা হুসাইন শোকে মাতম করেছিল সেদিন। আসমান ও জমিনবাসী কিয়ামত সন্নিকটে ভেবে ভীতসন্ত্রস্ত। এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য নাড়া দিয়েছে ইতিহাসবিদ গিবনের জ্ঞানে। তাই তিনি বলেছে, In a distant age and climate the tragic scene of the death of Husayn will awaken the sympathy of the coldest reader. অর্থাৎ “সেই দূরবর্তী যুগে ও পরিবেশে ইমাম হুসাইনের মৃত্যুর শোকাবহ দৃশ্য কঠিনতম পাঠকের হৃদয়ে, সমবেদনার সঞ্চার করবে।”

ইমাম হুসাইন আপোষহীন এক বীরের নাম। স্ত্রী বিধবা হয়ে যাওয়ার শঙ্কা, সন্তান এতিম হয়ে যাওয়ার ভাবনা ইমামকে সত্যের দৃঢ়মূল পথ থেকে সরাতে পারেনি। অদম্য এক বীরপুরুষ ইমামে হুসাইন। জান যাবে যাক, ইসলাম বেঁচে থাক। এ শ্লোগানটিই ইমামের শির উন্নত রেখেছেন। প্রিয় নবী তথা নানার রেখে যাওয়া সত্য দ্বীন ইসলাম বাঁচতে চায়। জান বাঁচার অবলম্বন অক্সিজেন হলেও দ্বীন বাঁচার অবধারিত অবলম্বন হলো রক্ত। মুমূর্ষু দ্বীন ইসলাম হুসাইনের পবিত্র রক্তে ফের জান ফিরে পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এই পোর্টালের কোনো লেখা বা ছবি ব্যাবহার দন্ডনীয় অপরাধ
কারিগরি সহযোগিতায়: ইন্টাঃ আইটি বাজার
shuvo
%d bloggers like this: