বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২০ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রামব্যাপি দৈনিক প্রিয় চন্দনাইশে নিয়োগ চলছে ।আজই আপনার সিভি আমাদের মেইল করুন । আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন ।

ভরা মৌসুমেও হাসি নেই চন্দনাইশের পেয়ারা বাগানীর মুখে

মো.আমিনুল ইসলাম রুবেল (বার্তা সম্পাদক)
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১
  • ৬০ জন পড়েছেন

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় ও পাহাড়ের পাদদেশে সৃজিত বাগানের স্বাস্থ্যসম্মত ‘কাঞ্চন পেয়ারা’ পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করেছে। রাসায়নিক সার ও কিটনাশক প্রয়োগ ব্যতি রেকে উৎপাদিত স্বাদে-গুণে ভরপুর চন্দনাইশের কাঞ্চন পেয়ারার কদর রয়েছে সারা বিশ্বব্যাপী। চন্দনাইশে উৎপাদিত পেয়ারা আকারে বড়, দেখতে সুন্দর, বিচি কম, রসালো, পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও সু-স্বাদু হওয়ায় এখানকার পেয়ারা চট্টগ্রাম-ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজারে বিক্রি করেন পাইকারেরা। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে পেয়ারা কিনে ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শহর অঞ্চলে সরবরাহ করেন এ পেয়ারা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েতে রপ্তানি হয় চন্দনাইশের এই পেয়ারা।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার আগে প্রতি বছর পেয়ারার মৌসুম শুরু হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাটবাজারগুলোতে পাইকারি ও খুচরা পেয়ারা বিক্রেতাদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু এবার সেই হাটগুলোতে জৌলুশে ভাটা পড়েছে। কারণ, হাটে পাইকারি ব্যবসায়ী নেই। করোনা মহামারিতে বিধিনিশেধের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা পেয়ারা কিনতে যেতে পারছেন না। এ ছাড়া গত কয়েক বছর ধরে পেয়ারার বাগান যেমন কমে আসছে, তেমনি পেয়ারার ফলনও কমে আসছে। চলতি মৌসুমে তা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি কম হওয়ায় এবার উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে পেয়ারা বাগান মালিক ও চাষিরা জানিয়েছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় পেয়ারা চাষ হলেও মূলত চন্দনাইশ উপজেলাই হলো কাঞ্চননগর জাতের পেয়ারার উৎপত্তিস্থল। এখানকার পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বিশেষ করে দোহাজারী, ধোপাছড়ি, হাশিমপুর, জঙ্গল হাশিমপুর, ছৈয়দাবাদ, লট এলাহাবাদ, কাঞ্চননগর, পটিয়ার কেলিশহর, হাইদগাঁও, শ্রীমাই এলাকায় সর্বোৎকৃষ্টমানের পেয়ারা উৎপন্ন হয়ে আসছে।

জানা গেছে, এ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে নতুন পলি জমার কারণে এখানকার মাটি খুব উর্বর হয়। এর ফলে পেয়ারা চারা রোপণ থেকে শুরু করে গাছ বড় হওয়ার পর পেয়ারা ফলন আসা ও পরিপক্ব পেয়ারা সংগ্রহ করা পর্যন্ত গাছের গোড়ায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ ও গাছে কোনো প্রকার কীটনাশক ছিটানো প্রয়োজন হয় না বাগান মালিক ও চাষিদের। এ কারণে এই পেয়ারাকে স্বাস্থ্যসম্মত বা (অর্গানিক) পেয়ারা বলে। তাছাড়া চাষিরা ডাঁটা ও পাতাসহ পেয়ারা সংগ্রহ করে এ কারণে ফরমালিন ও রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো ছাড়াই চার-পাঁচ দিন অনায়াসে এ পেয়ারা সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি বছর মৌসুম শুরু হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাট-বাজারগুলোতে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। পেয়ারার চাষ, ব্যবসা ও বাজারজাতকরণের কাজে জড়িত রয়েছেন কয়েক হাজার মৌসুমী শ্রমিক। পেয়ারা বহন ও বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এই চন্দনাইশে। বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে টানা চার মাস ধরে বাগানে উৎপাদিত এই পেয়ারা পাওয়া যায় এখানে। প্রতি মৌসুমে কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয় পেয়ারা চাষি ও শ্রমিকদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে যায়। শত শত শ্রমিক কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে তা বিশেষভাবে লালসালুর পুঁটলিতে মুড়িয়ে কাঁধে করে নিয়ে আসে বাজারে। এরপর লালসালু বাধা অবস্থায় থরে থরে সাজানো হয় পেয়ারা ভর্তি পুঁটলির সারি। তা দেখে ক্রেতা-বিক্রেতারা সহজেই আকৃষ্ট হয়, চলে দরদাম বেচাকেনা। প্রতি মৌসুমে দোহাজারী রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন মাঠ, খাঁনহাট রেলওয়ে ষ্টেশনের পাশে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাগিচাহাট, খাঁনহাট, কাঞ্চননগর, হাশিমপুর, বাদামতল, রৌশন হাট, চক্রশালা ও কমল মুন্সির হাট এলাকায় পাইকারি পেয়ারার বাজার বসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পেয়ারা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখানে পাইকাররা কিনে শত হিসেবে আর তারা বিক্রি করে ডজন হিসেবে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি ডজন পেয়ারা ৬০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হয়ে আসছে। এবার পেয়ারার ফলন গত কয়েক বছরের তুলনায় একেবারে নি¤œ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে উল্লেখ করে খানহাট পেয়ারা বাজারের ইজারাদার মো. শফিকুর রহমান জানান, “পেয়ারার ভরা মৌসুমেও বাজারে তেমন পেয়ারা নেই। দুই বছর আগেও প্রতিদিন এই বাজারে ৪শ ভার পেয়ারা আসতো। এখন আসে ৩০ থেকে ৪০ ভার। দূরদূরান্ত থেকে পাইকারেরা আসতে না পারায় অনেক সময় অবিক্রীত থেকে যায় পেয়ারা। ফলমুল বিক্রয়/রক্ষিত মালামালের ওপর মাশুল আদায়ের জন্য ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর রেলওয়ে থেকে যেই টাকা দিয়ে পেয়ারা বাজারটি লিজ নিয়েছি তার চার ভাগের এক ভাগ টাকাও তুলতে পারিনি। উপরন্তু দক্ষিণ কাঞ্চননগর ও নাছির মোহাম্মদ পাড়ায় দুইটি বাজার বসায় খানহাট রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন বাজারে পেয়ারা চাষীরা কম আসেন। ফলে আমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। করোনা পরিস্থিতির কারনে গত বছর বেশি কড়াকড়ি থাকায় বাজার তেমন একটা বসেনি। এবছর বৃষ্টি কম হওয়ায় ফলন কম হয়েছে। ফলে আশানুরূপ পেয়ারা বাজারে আসছে না। সরকারিভাবে কাঞ্চন পেয়ারার জাত সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী দুই এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু অর্গানিক পেয়ারা একেবারেই হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এই পোর্টালের কোনো লেখা বা ছবি ব্যাবহার দন্ডনীয় অপরাধ
কারিগরি সহযোগিতায়: ইন্টাঃ আইটি বাজার
shuvo
%d bloggers like this: