তরুণ লেখক সাইফুল ইসলাম নেজামীর ব্যতিক্রমী জন্মদিন পালন

চট্টগ্রাম

তরুণ লেখক সাইফুল ইসলাম নেজামীর ব্যতিক্রমী জন্মদিন পালন

এ প্রজন্মের লেখক কবি এম সাইফুল ইসলাম নেজামীর জন্মদিন ছিলো (১০-মে)। তিনি সকলের কাছে নেজামী ভাই হিসেবেই সমধিক পরিচিত। আমাদের দেশে জম্মদিন নানা ভাবে উদযাপন করা হলেও কিন্তু এই তরুণ লেখকের জম্মদিন পালন ছিল এক ভিন্ন রকমের! ভিন্ন আবেদনের। যেমন- সচারাচর জন্মদিন পালন মানে মোমবাতি নিভিয়ে কেক কাটা, হ্যাপি বার্থডে টু ইউ বলতে বলতে মুহমুহ হাততালি। সমাজের উচ্চবিত্তদের আপ্যায়ন, ইত্যাদি। তবে এমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি এ লেখক ও সুবক্তার জন্মদানের আয়োজনে। সম্পূর্ণ গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে জন্মদিন পালনের নতুন সংস্কৃতির জন্ম দিলেন তিনি। জন্মদিনের আগের রাত থেকে শুরু হয় জন্মবার্ষিকী পালনের আনুষ্ঠানিকতা। তাঁর জম্মদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অগণিত শুভেচ্ছা জানান অসংখ্য মানুষ। ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক অসংখ্য গুণীজন লেখক নেজামীর জন্মদিনে শুভকামনা জানান। তাঁর জম্মদিন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, “এবারের জন্মদিনটা মাহে রমজানে হওয়ায় মহাখুশি আমি।” বৈশ্বিক মহামারি করোনার আক্রমণে সারা দুনিয়া মুমূর্ষু। এ পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই হবে আমার জন্মদিনের প্রধান অনুষ্ঠান।” জন্মদিনে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী মহিমান্বিত লাইলাতুল কদরের ইবাদত বান্দেগী ও মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া জানানো, জান্নাতবাসী পিতা-মাতা ও মুরব্বিদের পবিত্র কবর জিয়ারত, মা-বাবার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতিহাখানি, মুরব্বিদের কাছ থেকে দোয়া নেওয়া, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শোকরানা ও মিলাদ মাহফিল, দেশমাতৃকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, ঘরহীন রাস্তাবাসী ও পথশিশুদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি, ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে উত্তম খাবার বিতরণ ছিলো লেখক নেজামীর জন্মদিনের অনাড়ম্বর আয়োজন। এছাড়াও জন্মদিনে প্রিয় মুসল্লীদের ফুলেল সংবর্ধনায় সিক্ত হন সংগঠক মাওলানা নেজামী। তিনি একজন দক্ষ সংগঠক। বর্তমানে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। রাবেত্বায়ে উলামায়ে আহলে সুন্নাত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় তথ্য-প্রযুক্তি ও গবেষণা সচিব নেজামী। সাইফুল ইসলাম নেজামী কেন্দ্রীয় ছাত্রসেনার সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রনেতা হিসেবেও ছাত্রজনতার প্রিয়মুখ ছিলেন একসময়ের তুখোড় এ ছাত্র সংগঠক। ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসেনার সিনিয়র সহ-সভাপতিও। এখনো চবি ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ সাবেক ছাত্রনেতা নেজামী। লেখক ছাড়াও তিনি একজন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা, মিডিয়া পারসন ও দক্ষ প্রশিক্ষক। ছিলেন জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা ছাত্রবার্তার সম্পাদকও। আধ্যাত্মিক জ্ঞানচর্চায় নিমগ্ন এ তরুণ লেখক মানবতার সংগঠন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক। তিনি সুফিবাদে বিশ্বাসী। কিন্তু ইসলামের লেবাসধারী জঙ্গি-সন্ত্রাস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের চরমভাবে ঘৃণা করেন। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কথায় কাজে বিশ্বাসী ইসলামী মূল্যবোধের লেখক সাইফুল ইসলাম নেজামী। অবিরাম লেখে যাচ্ছেন সত্যের পক্ষ্যে ও মিথ্যার বিরুদ্ধে। তার লেখা ও বক্তব্যে দেশের প্রতি নিরেট ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে। নিখাদ দেশপ্রেম নেজামী মানবতার ধর্ম ইসলামের সৌন্দর্যকে তোলে ধরেন ভিন্ন আঙ্গিকে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃঢ বন্ধন চান লেখক নেজামী। কলামিস্ট নেজামীর সমসাময়িক প্রবন্ধ, নিবন্ধ, কবিতা প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা। ১১ই মে একদিনে জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন পত্রিকা মিলে ১০টি পত্রিকায় এ লেখকের করোনাকালে ঈদ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে তাঁর জন্মদিনে বিভিন্ন মাধ্যমে যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সকলের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, “আমি মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় এগিয়ে যেতে চাই; সত্যের মশাল হাতে হতে চাই বঞ্চিত ও পিছিয়ে থাকা মানুষের প্রত্যাশার বাতিঘর।”

Leave a Reply