বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রামব্যাপি দৈনিক প্রিয় চন্দনাইশে নিয়োগ চলছে ।আজই আপনার সিভি আমাদের মেইল করুন । আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন ।

করোনায় ঈদবাজার ও ঈদ উদযাপন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী

মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম রুবেল (বার্তা সম্পাদক)
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১২ মে, ২০২১
  • ১৩৯ জন পড়েছেন

করোনায় ঈদবাজার ও ঈদ উদযাপন
সাইফুল ইসলাম চৌধুরী

সারা পৃথিবী আজ এক নিরব ঘাতকের আক্রমণে মুমূর্ষু। সরব পৃথিবী অজানা আতঙ্ক নিরব-নিস্তব্ধ। দুনিয়ার চিরচেনা রূপ যেন আজ সম্পূর্ণই অচেনা। মসজিদের সেই জৌলুশ আজ আর নেই বললেই চলে। মকতবে শিশুদের আদুরে কন্ঠে আলিফ, বা, তা, আলহামদুলিল্লাহ-এর মধুর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না দীর্ঘদিন। মাদরাসার টুল-টেবিলগুলো শিক্ষার্থীদের স্পর্শ পেতে কেঁদে চলছে অবিরাম। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো প্রাণহীন। আগের সেই কোলাহল, প্রাণচাঞ্চল্য আজ আর নেই। সূর্যের উদয়াস্ত আছে। নেই প্রকৃত আলো। চারিদিকে অন্ধকার আর অন্ধকার। মাটির উপরের দাপুটে অনেক চেনা মুখ আজ মাটির নিচে। খসে পড়েছে অনেক তারকা। বিশ্বকে মাতিয়ে রাখা অনেক কণ্ঠ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পৃথিবীতে আলো ছড়ানো অনেক সূর্যসন্তান নিভে গেছে অকালে। আয়ের চাকা বন্ধ। গতকালও যারা ধনী ছিল আজ তারা সর্বহারা। আকস্মিক এক ঝড়। তছনছ করে দিয়েছে সবকিছু। পরিবর্তন করে দিয়েছে পৃথিবীর গতিপথ। পাল্টে দিয়েছে জীবনযাত্রা। ভেঙে দিয়েছে স্বপ্ন। গুড়িয়ে দিয়েছে প্রত্যাশার রাজপ্রাসাদ। পৃথিবীর সব স্বাধীন দেশে সাংবিধানিক সরকার থাকলেও এখন সাতশো কোটি মানুষের এ গোটা দুনিয়ায় রাজত্ব এক অদৃশ্য শক্তির। সেই অদৃশ্য রাজার নাম মহামারি করোনা ভাইরাস। নভেল করোনা ভাইরাস বা কভিট’১৯। এ অদৃশ্য শক্তির আগমন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। চিনে জন্ম নেওয়া মরণঘাতী ভাইরাস আর চীনের উহানে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। যদি বলি তাকে ছাড়া পৃথিবীর কোন দেশ ও অঞ্চল নেই, তাহলে একবিন্দুও বাড়িয়ে বলা হবে না। তার আধিপত্য এখন সবখানে। গোটা দুনিয়া করোনা যুদ্ধে লিপ্ত। পৃথিবীর বাঘা-বাঘা দেশও করোনার কাছে অসহায়। এযাবৎ এ গোপন ঘাতক ওপেন কেড়ে নিয়েছে পৃথিবীর তেত্রিশ লাখের কাছাকাছি তাজাপ্রাণ। কতো যে বাবা-মায়ের বুক খালি করেছে; কতো স্ত্রী অকালে সাদা শাড়ি বরণ করেছে; কতো সন্তান এতিমের পরিচয় সঙ্গী করেছে; কতো বাবা-মায়ের অবুঝ শিশুটি চিরদিনের জন্য চোখ বুঁজেছে তার কোন অন্ত নেই। আরো কতো ফুল অকালে ঝরে যাবে, কতো জীবনবাতি অবেলায় নিভে যাবে, আল্লাহ মালুম। করোনা মহামারি প্রথম ঢেউ থেকে দ্বিতীয় ঢেউ বেশি ভয়াবহ। আরও বেশি শক্তিধর। হাসপাতালের সিটে কাতরানো করোনা রোগিদের কাঁন্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে আসছে। একটু বাঁচার আকুতি। কৃত্রিম অক্সিজেনের অভাবে অনেক হাসপাতালের অসহায় আত্মসমর্পণ। হাসপাতালে সিট খালি নেই। আইসিইউ বেডের সংকট। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এগিয়ে দেশগুলোর চিত্র আরও করুন। মৃত্যুপুরীতে পরিনত হয়েছে উন্নত বিশ্বের দেশসমূহ। মেধায় যারা চাঁদের দেশে পৌছুতে সক্ষম তারাও ব্যর্থ করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারে।

করোনার ভয়াবহতা এতোদিন দূর থেকে দেখলেও, এখন একেবারে নিকটে। সীমান্তের ওপরে (ভারত) জ্বলছে! শ্মশানে জায়গা নেই। সৎকারের মানুষ নেই। দিল্লির রাস্তায় পরে আছে করোনায় মৃতের লাশ। চলছে মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রতিদিন ভাঙছে করোনায় প্রাণহানি ও আক্রান্তের রেকর্ড। পিছিয়ে নেই প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশও। একদিনে শতের উপর মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে দেশে চলছে কড়াকড়ি লকডাউন। সরকার বেধে দিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। মহামারি থেকে বাঁচতে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শারীরিক দূরত্ব বজায় চলা। বিশ্বময় একটিই শ্লোগান, ঘরে থাকুন, মুখে মাস্ক পড়ুন। ঘরে থাকাটাই যখন এ যুদ্ধ জয়ের প্রধান হাতিয়ার। শারীরিক দূরত্বে থেকে মাস্ক পড়াটাই যখন মহামারির প্রাথমিক প্রতিষেধক। ভয়ে আতঙ্কে সচেতন মহলের যখন ইয়া নফছী নফছী অবস্থা।

তখন আমাদের দেশের এক শ্রেণির অদম্য শপিং পাগল দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে! যেখানে বলা হচ্ছে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে, সেখানে তারা গাদাগাদির প্রতিযোগিতা লাগিয়ে দিয়েছে। নূন্যতম শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। হাজার টাকার শপিং করতে পারে কিন্তু জীবন বাঁচাতে পাঁচ টাকার মাস্ক কিনতে পারে না বাঙ্গালী। শপিংমল থেকে শুরু করে সাধারণ দোকানপাট ও ফুটপাতে মানুষ ঈদের জন্য কেনাকাটায় হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। এ দৃশ্য শুধু ঢাকাতেই নয় মফস্বল শহর, উপজেলা এবং গ্রামের বড় বড় বাজারেও দেখা যাচ্ছে। শুধু ক্রেতারাই নয়, বিক্রেতাদের বেশিরভাগই মাস্ক ঠিকমতো পরছেন না, দোকানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখারও দৃশ্য চোখে পড়ে না, হাত ধুয়ে কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে শপিংমলে প্রবেশ করার নিয়মও তেমন কেউ মানছেন না। আরে ভাই আমি/আমরা বাঁচলেই ঈদ কিংবা ঈদের শপিং। না-ই যদি বাঁচি তাহলে এ শপিং কার জন্য! সীমান্তের ওপরের আগুন আমাদেরকে আতঙ্কিত করলেও সচেতন করতে পারেনি। এপারের কিছু যুবক-যুবতী, নারী-পুরুষ বুঝতেই চাইছে না, মার্কেটে যে নতুন কাপড়ের সাথে মরণঘাতী করোনা ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে। এ ফ্রি করোনা নিজের ও পরিবারের সকলের কাফনের কাপড়সহ ফ্রি করে দিবে, সেই বোধোদয় হচ্ছে না কিছু নারীর। নারী বলার কারণ হচ্ছে, মার্কেটের প্রতি ঝুকটা তাদের বেশি। স্বামী প্রবাসে চাকরিহারা অথবা বেতন বন্ধ। অসহ্য কষ্টে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে কারো-কারো। এ রমজানে ইফতারও জুটছে না রেমিট্যান্স যুদ্ধা অনেক প্রবাসীর ভাগ্যে। আর দেশে স্ত্রী দুবাই ওয়ালার বউ বলে দিব্বি মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ অযুহাত দিচ্ছে সন্তানের। আবার কেউ তো সরাসরিই বলছে- ঈদ এসেছে, মার্কেট করব না তা কিকরে হয়! শুধু প্রবাসীদের স্ত্রী বলে না, এ দৌঁড়ে পিছিয়ে নেই দেশীয়রাও। আমার অভিযোগ ঢালাওভাবে সবাইকে নিয়ে নয়। যারা এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মার্কেটে যাওয়াটা ফরজে আইন ধরে নিয়েছে, তাদের দিকে আমার অভিযোগের আঙ্গুল। করোনা মহামারির ১০ নম্বর বিপদ সংকেত জারি থাকা সত্ত্বেও এক নম্বরের গুরুত্বও মানুষ দিচ্ছেন না। ফলে আতঙ্ক, আশঙ্কা, হতাশা, নিরুপায় আমাদের অনেকের ওপরই ভর করে আছে। তবে এই সংখ্যাটি ১৭ কোটি মানুষের তুলনায় নগণ্য।

অন্যদিকে, পাখি ড্রেস কিনে না দেওয়ায় বাবার সাথে রাগ করে কন্যার আত্মহত্যা; ঈদে পছন্দসই পোশাক না পেয়ে ছেলের আত্মহত্যা; দামী শাড়ি কিনে না দেওয়ায় স্বামীকে স্ত্রীর ডিভোর্স। মিডিয়ায় ঈদের আগে এগুলো কমন সংবাদ। এগুলো ঈদ শপিংয়ের অপূর্ণতায় ঘটে যাওয়া নিষ্ঠুর বাস্তবতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এই পোর্টালের কোনো লেখা বা ছবি ব্যাবহার দন্ডনীয় অপরাধ
কারিগরি সহযোগিতায়: ইন্টাঃ আইটি বাজার
shuvo
%d bloggers like this: