অন্ধকারে আলোর মশাল ইমাম শেরে বাংলা এম সাইফুল ইসলাম নেজামী

চন্দনাইশ

অন্ধকারে আলোর মশাল ইমাম শেরে বাংলা
এম সাইফুল ইসলাম নেজামী

মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ অপ্রকাশিত প্রভূত্ব প্রকাশের অভিপ্রায়ে সৃষ্টির মূল হাবিবে খোদা হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.)’র নুর মোবারক সৃষ্টি করলেন। নবিপ্রেমের স্বাক্ষর রাখতে সৃষ্টি করেছেন আঠারো হাজার মাখলুকাত। অনিন্দ্য সুন্দর করে সাজিয়েছেন আমাদের এ বসুধা। করেছেন বাসযোগ্য। পাঠিয়েছেন পথপ্রদর্শক। নিজের প্রভূত্ব ও প্রিয় হাবিব (দ.)’র শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার-প্রতিষ্ঠায় আদি পিতা হযরত আদম সফিউল্লাহ থেকে ঈসা রুহুল্লাহ পর্যন্ত এক লাখ চব্বিশ হাজার অথবা তিন লাখ ছত্রিশ হাজার নবি-রাসুল এসে এ ধরণীকে আলোকিত করেছেন। সমসাময়িক পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জাতি আরবদের ভূখণ্ডে রাহমাতুল্লিল আলামিন নবি মোস্তফা (দ.)-কে প্রেরণের মাধ্যমে এ অমোঘ ধারাবাহিকতার পরিসমাপ্তি ঘটান। অসভ্য বর্বর এ জাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন করেন দয়াল নবি। নবুয়ত-রিসালাতের সমাপ্তি পরবর্তী বেলায়তের দ্বারা চলমান আছে, থাকবে শেষদিন পর্যন্ত। যেকোন ক্রাইসিস মুভমেন্ট ক্রিয়েট হলেই সেটাকে ওভারকাম করার জন্য একজন পরিত্রাণকারী প্রেরণ করে জাতিকে সুপথ দেখান মহান আল্লাহ। বায়তুল মোকাদ্দাসের জন্য যেমন সালাউদ্দিন আইয়ুবি, হিন্দুস্থানে হেরার জ্যোতি যেমন খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি আজমিরি, সম্রাট আকবরের দ্বীনে ইলাহি থেকে মানুষকে হেফাজতের জন্য খোদা প্রদত্ত শক্তি যেমন মুজাদ্দিদে আলফে সানি, বাতিল অপশক্তির বিষদন্ত ভাঙতে যেমন ইমাম আ’লা হজরত, প্রিয় নবির সুন্নাত থেকে সরিয়ে যখন ইয়াহুদী-নাসারাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরলপ্রাণ মুসলমানদের কাজে লাগাচ্ছে একদল ষড়যন্ত্রকারী, ইসলামকে ধ্বংস করতে মুসলমানদেরকেই যখন গুটি হিসেবে ব্যবহার করছে, যখন নব্য তাওহিদের দোহাই দিয়ে শানে রিসালতকে ভূলুন্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে, সেই ক্রান্তিলগ্নে দ্বীনের হাহাকার থামাতে মহান আল্লাহ তাঁর হাবিবের উসিলায় সুন্নিয়ত ও বেলায়তের উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক আউলাদে রাসুল (দ.) ইমামে আহলে সুন্নাত হজরতুল আল্লামা গাজী সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আলকাদেরি (রহ.)-কে হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীতে মহান সংস্কারকরূপে প্রেরণ করেন। হুজুর ইমাম শেরে বাংলার বর্ণাঢ্য জীবনী এ সংক্ষিপ্ত পরিসরে লেখা সম্ভব নয়। বাবাজি ইমাম শেরে বাংলার ৬৩ বছর হায়াতে জিন্দেগিতে নিম্নোক্ত বাণীটি প্রসঙ্গক্রমে বারংবার এরশাদ করতেন। “আমি পির-মুরিদ করার জন্য আগমন করিনি। মসজিদ ও মাদরাসার গণ্ডির ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকার জন্যও আমার আগমন হয়নি। আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য সীমাবদ্ধ নহে। আমাকে কোন নির্দিষ্ট দেশ বা এলাকার জন্য মনোনীত করা হয়নি। আমাকে বিরামহীনভাবে কাজ করার জন্য আদেশ করা হয়েছে। অনেকে মনে করে আমি শুধু ওহাবী দমনের অস্ত্র; আসলে তা নয়। বরং আমি দুনিয়ার সকল বাতিল শক্তির মোকাবিলা ও প্রতিকার করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। ইহা জমানার মোজাদ্দিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।” ইমামের এ গভীর তাৎপর্যপূণ্য বাণী উনার অসাধারণ জীবন সম্পর্কে আমাদের সমূহ ধারণা দেয়। এ নিবন্ধে আমরা সফল জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান ইমাম গাজী শেরে বাংলাকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
কৈশোর কাটিয়ে যৌবনের শুরু থেকেই আরম্ভ হয় ইমামের সংগ্রামী পথচলা। প্রথমে নিজ এলাকা হাটহাজারী মেখল ইউনিয়নে ঘাপটি মেরে থাকা ইসলামের শত্রুদের মুখোশ উন্মোচন করেন যৌবনদীপ্ত আ’লে রাসূল আজিজুল হক। ইমামের এ সংগ্রাম দেশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে পৌঁছে যায়। ইসলামকে পুঁজি করে দ্বীনের সর্বনাশ করা উগ্রবাদী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ধারালো তলোয়ার ছিলেন ইমাম শেরে বাংলা। যেখানে অধার্মিকতা, ধর্মান্ধতা, ভণ্ডামি, অসঙ্গতি, অনৈতিকতা, অসভ্যতা, অসামাজিকতা, অপকর্ম, অপসংস্কৃতি; সেখানেই সত্যের পক্ষে সর্বাগ্রে ছিল ইমামের হুংকার। যেখানে মিথ্যার পাহাড় গড়ে উঠত, সেখানে সত্যের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতেন তিনি। হিংসার বিষবাষ্পে তিনি প্রেমের পুষ্প ছড়াতেন। মানবতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ইমামের পথচলা ছিল অপ্রতিরোধ্য। ন্যায়ের ইস্পাত-দৃঢ় পিলার ইমাম শেরে বাংলা ঈমান আক্বিদার প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন। মাজহাব মিল্লাতের পরম বন্ধু ইমাম শেরে বাংলা মিল্লাতের প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে লড়েছেন আমৃত্যু। ইমামের সাথে যুক্তিতর্কে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে পেরে উঠতে না পারলেই হিংস্র বাঘের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতো ইসলামের শত্রুরা। আমার ইমাম মৃত্যুকে যে কতবার আলিঙ্গন করেছেন তার কোন অন্ত নেই। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক, মদিনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান নবিয়ে আরবি হজরত মুহাম্মদ (দ.)’র সুনিপুণ রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে সমাজ পরিচালনার প্রতি আগ্রহী হন ইমাম শেরে বাংলা। যে সময়ে পির, ফকির, দরবেশ বলতে শুধুই খানেকায় ধ্যানমগ্ন থাকাকেই বুঝানো হতো। ঠিক তখনই এ বদ্ধমূল ধারণা পরিবর্তন করে দিলেন যুগের শ্রেষ্ঠ সংস্কারক, আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ, সুফিবাদী মুসলমানদের রাহবার, পিরে কামেল সৈয়দ মুহাম্মাদ আজিজুল হক শেরে বাংলা। ‘মোল্লার দৌঁড় মসজিদ পর্যন্ত’ -যে মিথ্যা সল্লুক মানুষের মুখে-মুখে প্রচলিত ছিলো, সে সল্লুককে পাল্টে দিয়ে ইমাম শেরে বাংলা বুঝিয়ে দিয়েছেন আলেমরা সকল কাজের কাজী। খোদাপ্রদত্ত প্রতিনিধিত্বে মসজিদের মিম্বারের শাহানশাহ, মাদরাসার অধ্যক্ষ, ময়দানের শ্রেষ্ঠ ওয়ায়েজ, মঞ্চের সুবক্তা, তর্কযুদ্ধের সুকৌশলী মুনাজের, ছন্দের জাদুকর, জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যার সহজ সমাধানদাতা, সমসাময়িক ক্ষুরধার লেখক, সর্বোপরি সব শ্রেষ্ঠ গুণের সমাহারে খোদা-রাসুলের পছন্দনীয় একজন সুপুরুষের নাম খাজা ইমাম শেরে বাংলা। মিল্লাতের আক্বিদাগত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্টের কারণ এড্রেস করলেন অসহায়ের সহায় খাজা শেরে বাংলা। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ পিরিয়ডের সূর্যাস্ত হয়। পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান দু’টি রাষ্ট্র। ব্রিটিশ থেকে স্বাধীনতা পেয়েও পূর্ব-পাকিস্তানের মানুষের ভাগ্যোন্নতি হয়নি। জন-প্রতিনিধিরা নিজ-নিজ পকেট ভারি করতে ব্যস্ত। নিপীড়িত মানুষের দিকে তাকানোর সময় নেই বললেই চলে কথিত জন-প্রতিনিধিদের। এহেন পরিস্থিতিতে বঞ্চিত মানুষের আত্মচিৎকার মানবিক আজিজুল হকের হৃদ গহীনে গভীরভাবে রেখাপাত করেন।

পদ-পদবীর প্রতি নির্লোভ, নির্মোহ সৈয়দ মুহাম্মাদ আজিজুল হক আলকাদেরী ধীরে-ধীরে অসহায়-দুঃখী মানুষের কন্ঠস্বর হয়ে উঠলেন। মিল্লাতের ইমাম হয়ে উঠলেন সাধারণ জনগণের পরম বন্ধু। ইমামে পাকের জনহিতৈষী কর্মকাণ্ড মানব মনে আশার সঞ্চার করে। অভুক্তকে অন্যদান, অসহায়কে আশ্রয় দেওয়া, অশিক্ষিত জাতিকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিনত করার অদম্য প্রচেষ্টা, জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ইমামকে তুলে দেয় অনন্য উচ্চতায়। নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের সংগ্রামে ইমামকে অগ্রপথিক বানাতে একাট্টা মেখল ইউনিয়নের জনগণ। যে কথা সে কাজ। মরুর দুলাল দয়াল নবী (দ.)’র অকৃত্রিম আশেক, ছানিয়ে ওয়াইসুল করনি ইমাম শেরে বাংলা সুন্নাতে মোস্তফা প্রতিষ্ঠার মানসে সমাজ পরিচালনায় অবতীর্ণ হলেন। করলেন চেয়ারম্যান নির্বাচন। যে (মেখল) ইউনিয়ন থেকে নির্বাচন করছেন আক্বিদাগত হক-বাতিলের দ্বন্দ্বে সেখানে অধিকাংশ ইমামের বিরোধী। নির্বাচন মানে জয়-পরাজয়ের খেলা। ভিন্নমতাবলম্বীরা হতে পারে ইমামের পরাজয়ের কারণ। কিন্তু চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইমামের যোগ্য নেতৃত্ব ও মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সর্বমহলের পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন লাভ করেছিলেন। এরূপ মহৎ আদর্শের উদাহরণ নিকট অতীতে খুবই বিরল। ইমামের চির শত্রু ওহাবিরা পর্যন্ত অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন করতেন। তাদের বিশ্বাস ছিল ইমাম শেরে বাংলাকে ভোট দিলে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে। সাম্যের সমাজ বিনির্মাণ হবে। এখন যা লিখতে যাচ্ছি তা পড়ে যে কারো চোখ কপালে উঠার অবস্থা হবে। ভোটের সময় ঘনিয়ে এসেছে। ওহাবি ভদ্রলোকরা তাদের বড় হুজুর মুফতি ফয়জুল্লাহ’র কাছে পরামর্শের জন্য গেলো। ভোট কাকে দেবে সে কথা জানতে। মুফতি সাহেব উনার কওমকে নির্দেশ দিলেন, ‘অবশ্যই তোমরা মাওলানা আজিজুল হক শেরে বাংলাকে ভোট দেবে’। কওমের ভদ্রলোকেরা প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি শেরে বাংলার বিরুদ্ধাচারণ করেন, অথচ এখন তাঁকে কেন ভোট দিতে বলছেন?’ মুফতি সাহেব উত্তর দিলেন, ‘সেটা অন্য (আক্বিদা) ব্যাপার।’ আক্বিদার প্রশ্নে ভিন্ন মেরুতে থাকা মুফতি ফয়জুল্লাহ সাহেব বলেন, ‘আমি দৃঢ়চিত্তে বলতে পারি- এ মুহূর্তে শেরে বাংলার মত সুবিচারক, সুবিবেচক, ন্যায় বণ্টনকারী বিশ্বস্ত ব্যাক্তি তোমরা পাবে না।’ ইমামের প্রতি মুফতি সাহেবের এমন মূল্যায়ন সুন্নি মিল্লাতেরও বড় অর্জন। হকের স্পষ্ট প্রমাণ। সকলের সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন ইমাম শেরে বাংলা। সভ্যতা সংস্কৃতি থেকে পিছিয়ে থাকা জনপদের নাম মেখল ইউনিয়ন। পঞ্চাশ-ষাট দশকে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বোর্ড-প্রেসিডেন্ট তথা চেয়ারম্যান ছিলেন ইমাম শেরে বাংলা। যখন ভোটের পর জনপ্রতিনিধিদের পাওয়া দুষ্কর, তখন জনগণের চেয়ারম্যান ইমাম শেরে বাংলা নিজে ঘরে-ঘরে গিয়ে ত্রাণ-সামগ্রী পৌঁছে দিলেন। ষাটের দশকে প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন মেখল ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিতে ভাসমান, তখন জনদরদী চেয়ারম্যান শেরে বাংলা নিজ কাধে করে চাল-ডাল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বন্যার্ত অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ইমামের সে জনসেবার কথা এখনো মেখল ইউনিয়নের প্রবীণদের নখদর্পনে সজীব। ইমাম শেরে বাংলার প্রশাসন পরিচালিত হতো খুলাফায়ে রাশেদিনের জীবনাদর্শে। অদ্বিতীয় নবিপ্রেমিক সিদ্দিকে আকবরের আদর্শে উজ্জীবিত ইমাম শেরে বাংলা ছিলেন নবিপ্রেমে প্রাণোৎসর্গকারী। ফারুকে আজমের আদর্শে অনুপ্রানিত ইমাম ইসলামের শত্রুদের প্রতি ছিলেন ধারালো তলোয়ার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন। ওসমান জুননুরাইনের দানশীলতায় মুগ্ধ ইমাম ভক্ত মুরিদ ও অসহায় মানুষের কাছে ছিলেন বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন; মানবতার প্রতিবিম্ব। মওলায়ে কায়েনাত মওলা আলির প্রেমোদীপ্ত ইমাম ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিরল প্রতিভা। মিথ্যা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কারবালার প্রান্তে জান্নাতি যুবকদের সরদার ইমাম হাসনাইনে কারিমাইনের তেজোদ্দীপ্ত সাহসিকতা গাজী শেরে বাংলাকে জিহাদের প্রেরণা যোগাতেন ক্ষনে-ক্ষনে। যে বুড়ি প্রিয় নবিকে কষ্ট দেওয়ার জন্য চলার পথে কাটা দিয়ে রাখত, সে বুড়ির অসুস্থতার সময় দয়াল নবির সেবার ইতিহাস কারো অজানা নেই। রাহমাতুল্লিল আলামিনের নায়েব ইমাম শেরে বাংলাকে যারা পদে-পদে অপদস্ত করেছে, মেরে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছে, সেসব ওহাবিদের প্রতি সুবিচার, সমবন্টন, তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা ইমামকে নিয়েছেন সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায়। ৫২ সালে ২রা জুন সংঘটিত খন্দকিয়া ট্রাজেডিতে শাহাদাতবরণের পর পুনঃজীবন লাভ ইমামের কবুলিয়ত, মিল্লাতের আসলিয়তের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যারা ইমামকে শহিদ করেছে, তাদেরকে দুনিয়াবি শাস্তি নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে ইমাম শেরে বাংলা ক্ষমার বিরল স্বাক্ষর রেখেছেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইমাম শেরে বাংলা চাইলে ভোগের রাজত্ব কায়েম করতে পারতেন। পক্ষান্তরে তিনি ছিলেন ত্যাগের মূর্ত প্রতীক। আমরা মনে করি জনপ্রতিনিধি মানে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, কিন্তু জীবদ্দশায় ইমাম নিজের জন্য একটি ঘর পর্যন্ত নির্মাণ করেন নি। জীবনের সব উপার্জন মাজহাব-মিল্লাত ও অসহায় মানুষের জন্য অকাতরে ব্যয় করে ভাড়া-বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমার ইমাম। ঠিক যেমন ইসলামের প্রথম খলিফা আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক নিজ সব বিষয়-সম্পত্তি দ্বীনের তরে ব্যয় করে নিজের জন্য আল্লাহ ও রাসুলের ভালোবাসা খাস করে নিয়েছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি’২১ ইং অনুষ্ঠেয় প্রজন্মের অনুপম আদর্শ, অন্ধকারে আলোর মশাল ইমাম শেরে বাংলার মহান ওরশ মোবারক সুন্নি ঐক্যের সেতুবন্ধক হোক।

এম সাইফুল ইসলাম নেজামী
কবি ও প্রাবন্ধিক
01626364062
msinejam@gmail.com

Leave a Reply