চন্দনাইশে বীর মুক্তিযােদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরীর নামে সড়কের নামকরণ

চন্দনাইশ

চন্দনাইশে বীর মুক্তিযােদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরীর নামে সড়কের নামকরণ

চট্টগ্রামের খানহাট-ধােপাছড়ি-বান্দরবান জেলা মহাসড়কের হাসিমপুর ইউনিয়ন অংশ পর্যন্ত ৩ কিলােমিটার সড়ক বীর মুক্তিযােদ্ধা হারুন আল জাফর সড়ক নামে নামকরণ করা হলো। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায় । মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং মুক্তিযােদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদানের ধারাবাহিকতায় আগামী প্রজন্মের নিকট মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযােদ্ধাদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সড়কটি এখন হতে বীর মুক্তিযােদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরী সড়ক নামে পরিচিতি পাবে।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাসিমপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযােদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলাধীন উত্তর হাসিমপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কলেজে অধ্যয়নকালীন সময় থেকে পূর্ব পাকিস্থানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও শােষণ নির্যাতনের প্রতিবাদে পাকিস্থানী শাসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে শরিক থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ পাকিস্থানী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে জনমত গড়ে তােলেন এবং নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হাসিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পদের দায়িত্ব পালন করে শারীরিক অসুস্থতার কারণে এ পদ হতে অব্যাহতি নেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন তিনি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের নেতৃত্বে গঠিত ১ নং সেক্টরের অধীনে চট্টগ্রামের কালুরঘাট, মিলিটারী পুল, পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট ও কুসুমপুরা এবং চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ব্রীজসহ বিভিন্ন স্পটে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর সাথে সশস্ত্র সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগ সরকারের নেতৃত্বে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়ােগ করেন। জীবদ্দশায় তিনি হাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, চন্দনাইশ উপজেলা মুক্তিযােদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার, মুক্তিযােদ্ধা পুনর্বাসন পরিষদ, চন্দনা সাংস্কৃতিক একাডেমী ও মেহেরুন্নেছা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ইত্যাদি পদের দায়িত্ব পালন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে ওতপ্রােতভাবে জড়িত থেকে দেশ ও সমাজ সেবায় নিবেদিত ছিলেন।
হাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাসিমপুর মকবুলিয়া মাদ্রাসা, উত্তর হাসিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেরামত আলী সিকদার জামে মসজিদ, খানহাট রেলওয়ে ষ্টেশন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারী স্থাপনাসমূহ তার পৈত্রিক মৌরসী সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এলাকার এবং সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নে বীর মুক্তিযােদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরী ও তার উত্তরসুরীদের অসামান্য অবদান রয়েছে। উল্লেখ্য, মুক্তিযােদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরী ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Reply