পোশাকের আধুনিকায়ন হলেও বাঙালি নারীর পছন্দ শাড়ি

লাইফ স্টাইল

পোশাকের আধুনিকায়ন হলেও বাঙালি নারীর শাশ্বত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে কেবল শাড়িতেই। শাড়ির চিরন্তন আবেদন আজও অমলিন। ১২ হাত একখানা শাড়ির সৌন্দর্যের কাছে যেন হার মানে অন্য সব পোশাকই। আর তাই তো বাঙালি নারীদের কাছে শাড়ি খুব শখের একটি পোশাক।

মডেলঃ প্রীতি

নারীর স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন এখন অনেকটাই পূর্ণ। বর্তমানে ঘরে-বাইরে সবখানেই বেড়েছে নারীর কর্মব্যস্ততা। নারীর সঙ্গে যোগ হয়েছে দক্ষতা, কর্মমুখিতা, উৎসাহ, উদ্যোগের মতো সংজ্ঞা। অন্যদিকে নারীর জীবন থেকে বাদ পড়েছে পিছিয়ে থাকা আর আড়ষ্ঠতা নামক কিছু বৈশিষ্ট্য। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নারী আজ ঘরের বাইরে শুধু পা রাখেননি, সেই সঙ্গে রাখছেন সফলতার শিখরে পদচিহ্ন। এসব সফল নারীর সৌন্দর্যের অন্যতম সঙ্গী ১২ হাতের শাড়ি।

শাড়ি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের নারীদের ঐতিহ্যবাহী ও নিত্যনৈমিত্তিক পরিধেয় বস্ত্র। অনেক লম্বা ও সেলাইবিহীন কাপড় দিয়ে তৈরি এই পোশাকটি নারীদের কাছে খুব শখের একটি পোশাক। যদিও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাল্টে যায় এই পোশাকের ধরন। যোজন-বিয়োজনে শাড়ির ফ্যাশন আর পরিধেয় স্টাইলে আসে আমূল পরিবর্তন। যা নারীর শাড়িকে করে আরও আকর্ষণীয়।

নারীদের সারা দিন কাজের অন্ত নেই! সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে চলতে থাকে একের পর এক দায়িত্বের ভার। এই ঘরদোর পরিষ্কার তো খানিক বাদেই কাপড় ধোয়া। তার ওপর রান্নাবান্নার নৈমিত্তিক কাজকর্ম তো আছেই! করোনাকালের জন্য এখন হয়তো অফিস যাওয়া হয়ে ওঠে না। কিন্তু তাই বলে কি কাজ থেমে আছে? হয়তো না, আজকালের কর্মজীবী নারীর হোম অফিস তো আছেই। এর মধ্যে নেই কোনো সাহায্যকারীও। উপরন্তু করোনার সময়ে বাড়তি যোগ হয়েছে বারবার হাত ধোয়া, জিনিসপত্র, আসবাব, বাজার সবকিছু জীবাণুমুক্ত করা। ঠিক আছে, কিন্তু সবই তো করা যায় শাড়ি পরে। অনভ্যাসে শুরুতে মন সায় না দিলেও পরেই দেখুন আলমারিতে তুলে রাখা কনে দেখার শাড়িটি। নিজেই কেমন চমকে যাবেন নতুন নিজেকে দেখে।

আজ নারী বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে আপন মহিমায় ভাস্বর। তাই নারী আজ ঘরের কোণে সেকালের মতো বন্দী  থেকে অন্ধ অনুকরণ ও বিশ্বাসকে আঁকড়ে না ধরে শিক্ষা তাদের অন্তর-বাহিরকে জাগরিত করেছে। তাই আজ নারী পুরুষের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারছে। যারা এই সময়ে বাড়ি থেকেই অফিস করছেন তাদের কাজের মধ্যে আবশ্যিকভাবেই চলে আসে ভিডিও কনফারেন্স কিংবা অনলাইন মিটিং। অফিসের পরিবর্তে বাসায় বসে কাজটি করতে হলেও তার জন্যও তো চাই পরিপাটি থাকা। যারা এমন মিটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা বেছে নিতে পারেন সুতি বা শিফনের কোনো শাড়ি। খুব জমকালো না হলেই ভালো। তবে শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে হালকা সাজের কথা ভুলবেন না যেন। নিঃসন্দেহে আপনার লুক বাড়তি ইম্প্রেশন দেবে।

কালেক্টেডঃঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Reply